http://www.m.mzamin.com/article.php?mzamin=220239

বাংলাদেশে এখনো সহনীয় পর্যায়ে রয়েছে করোনা ভাইরাসের পরিস্থিতি ।
তবে সাম্প্রতিক ভয়াবহ পূর্বাভাস দিয়েছে জাতিসংঘ।
তাদের ফাঁস হওয়া এক অভ্যন্তরীণ স্মারক নথিতে সতর্কতামূলক পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে যে, ‘বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের কারণে সর্বোচ্চ ২০ লাখ মানুষ মারা যেতে পারে।’
ফাঁস হওয়া জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনের সত্যতা সম্পর্কে সংবাদ মাধ্যম থেকে প্রশ্ন করা হলে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ দফতর থেকে বলা হয়, এক্ষেত্রে বৈশ্বিকভাবে স্বীকৃত মডেলিং পদ্ধতি ব্যবহার করে ওই পূর্বাভাস প্রস্তুত করা হয়েছে।

গেল ডিসেম্বরে চীনের হুবেই প্রদেশের জনবহুল উহান শহর থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে তামাম দুনিয়া এখন টালমাটাল। প্রতিদিন, প্রতিক্ষণে বাড়ছে আক্রান্ত মানুষের সঙ্গে দীর্ঘতর হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। করোনা ইতিমধ্যে ইতালিকে বানিয়েছে মৃত্যুপুরী, স্পেনকে ধরাশায়ী করে, নিউইয়র্কে ঘরে ঘরে কান্নার রোল ফেলে দিয়েছে।
গবেষকদের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, একটা জনগোষ্ঠীর শতকরা ৭০ ভাগের যদি একবার করে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ঘটে যায়, তবে তারা ইমিউন হয়ে যাবে, এরপর আর ভাইরাস মানুষের শরীরে সুবিধা করতে পারবে না।

ধরা যাক, যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা ৩২ কোটি। ৭০ ভাগ লোককে আক্রান্ত হতে হবে এই ভাইরাসকে কাবু করতে। কমবেশি সংখ্যাটি ২২ কোটি। ২২ কোটির মধ্য ২ ভাগ মারা যাবে (আল্লাহ না করুন) । তাহলে মারা যাবে ৪৪ লাখ। এই মোট সংখ্যাটা এক বছরে হতে পারে, দুই বছরেও হতে পারে।

বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কায় করোনা পরিস্থিতি এখনো ইউরোপ–আমেরিকার মতো খারাপ নয়। তবে যে কোন সময় খারাপ হওয়ার পরিসংখ্যানটা নিজেই তৈরি করে নিতে পারেন যে কেউ।

নিউইয়র্ক মৃত্যুপুরী হয়ে গেছে। নিউইয়র্কের পরিস্থিতির এই দ্রুত অবনতি ঘটেছে মাত্র চার সপ্তাহের মধ্যে। মার্চের ১ তারিখে নিউইয়র্ক স্টেটে করোনাবাহী ছিলেন একজন, ৮ মার্চ ১০৮ জন, ১৬ মার্চ আক্রান্ত ৯৫০ জন মৃত্যু হয়েছিল ৭ জনের । আজ সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৩ এপ্রিলে এসে আক্রান্ত ২ লাখ ৪৫ হাজার ২৭৫, মৃত্যু ৬ হাজার ৯৫ জনের অধিক।

আমাদের দেশে করোনাবাহী মানুষ এখানে-ওখানে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। আমরা সাধারণ ছুটির পর যেভাবে বাসে লঞ্চে ফেরিতে ট্রেনে গাদাগাদি করে চলাচল করেছি,কোয়ারেন্টাইনের শর্ত ভঙ্গ করে যেভাবে ত্রাণসামগ্রী নেওয়ার জন্য গায়ে গা লাগিয়ে ভিড় করে ত্রাণ সংগ্রহ করছি, অবশ্যই এই সুযোগে করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। এর ফলাফল আমরা এখনো দেখতে পারছি না।বিশেষজ্ঞদের দাবি এর কুফল দেখতে পাব আমরা আরো এক মাস পরে।
এক মাসে নিউইয়র্কে বেড়েছে ৮০ হাজার গুণ। আমাদের দেশে যদি ৫০টাই পরীক্ষিত কেস হয়ে থাকে, যারা কোন উপসর্গ ছাড়াই জনসমাগমে মিশে গিয়েছে। এক মাস পর এটা হওয়ার শঙ্কা ৪০ হাজার। এটা জ্যামিতিক হারে বাড়লে পরের এক মাসে করোনাক্রান্ত লাখ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। আমরা এই মহামারি রোধ করতে পারব না। এখান থেকে ওখান থেকে তখন মৃত্যুর খবর আসবে।কারণ এক লাখ আক্রান্ত হওয়া মানে ৩৩ হাজার এটার কোন লক্ষণ টের পাবেন না, নীরবে বহন করবেন। ৮০ হাজার বাড়িতেই সেরে উঠবেন। বাকি কুড়ি হাজারের হাসপাতাল লাগবে।এদের জন্য নূন্যতম ৩ হাজারের ভেন্টিলেটর আইসিইউ লাগবে। এই হিসাব এক লাখ আক্রান্ত ধরে। সংখ্যাটি যদি দুই লাখ হয়, তিন লাখ হয়? আমাদের সরকারি আইসিইউ বেড আছে মাত্র ৪৩২টি, বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে ৭৩৭টি এই হিসাব মার্চের ২২ তারিখ পর্যন্ত।
সেসব বেডে আগে থেকে সাধারণ রোগীরা চিকিৎসাধীন আছেন। সুতরাং পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর আইসিইউর অভাবে চিকিৎসার অভাবে অনেক লোক মারা যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং অপর্যাপ্ত সুযোগ সুবিধা এবং জনবলের অভাবে জাতিসংঘের ফাঁস হওয়া তথ্য সঠিক হলে আগামীতে কি ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে আমাদেরকে ভাবতেই কষ্ট হচ্ছে।