
তুর্কমেনিস্তান মধ্য এশিয়ার সবচেয়ে কম জনসংখ্যার একটি দেশ। তবে আয়তনের দিক দিয়ে তুর্কমেনিস্তান বিশ্বের ৫২তম বৃহত্তম দেশ। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে গেলে তুর্কমেনিস্তান স্বাধীনতা লাভ করে ১৯৯২ সালে নতুন সংবিধানের অধিনে সরকার গঠন করে।মোট জনসংখ্যার ৮৯ শতাংশ মুসলিম আর ৯ শতাংশ খ্রীষ্টান বাকি ২ শতাংশ অন্যান্য ধর্মাবলম্বী।
রাষ্ট্রপতি শাসিত প্রজাতন্ত্র কাঠামোয় দেশটি পরিচালিত হলেও তুর্কমেনিস্তানকে পৃথিবীর মধ্যে অন্যতম কঠোর ও নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এখানে ভিন্নমত চর্চা এবং রাজনৈতিক স্বাধীনতা নেই বললেই চলে ।
২০০৭ সাল থেকে দেশটিতে স্বৈরাচারী ‘কুরবানগুল বার্দিমুখমেদভ’ এর কর্তৃত্ববাদী সরকার দেশ শাসন করে আসছ। সর্বশেষ ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত নিয়ম রক্ষার নির্বাচনে ৯৭ ভাগ ভোট পেয়ে ‘কুরবানগুল বার্দিমুখমেদভ’ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। যদিও আন্তর্জাতিক সকল পর্যবেক্ষকরা নির্বাচনের ফলাফলকে প্রত্যাক্ষান করে একে একতরফা তামাশার নির্বাচন বলে মত দিয়েছেন।
দেশটিতে দমনপীড়নমূলক শাসন ব্যবস্থা কায়েম থাকায় সেখানে সংবাদ মাধ্যমের কোনো স্বাধীনতা নেই। করোনা মহামারীতে বিশ্ব যখন জেরবার, এরই মধ্যে বিশ্বের একশ নব্বইটি দেশের প্রায় সাড়ে ৪৭ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং নয় লাখের উপরে মানুষ মহামারী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। তখনো সরকার রাষ্ট্র-নিয়ন্ত্রিত সংবাদ মাধ্যমকে করোনা ভাইরাস শব্দটি ব্যবহারের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কেউ প্রকাশ্যে করোনা ভাইরাস শব্দটি উচ্চারণ করতে পারছেনা। কেউ সরকারি আইন অমান্য করলে সঙ্গে সঙ্গে তাকে গ্রেফতার করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
জনসম্মুখে এই রোগ নিয়ে আলোচনা করলে, এমনকি মুখবন্ধনী পরিধান করলেও লোকজনকে আটক করছে সাদা পোশাকের পুলিশ।
পার্শ্ববর্তী দেশ ইরানে পঞ্চাশ হাজারের বেশি মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত এবং সাড়ে তিন হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। তারপরেও সরকারের দাবি, তুর্কমেনিস্তান এখনও করোনা ভাইরাসের কোনও রোগী শনাক্ত হয়নি।
এ কে এম বেলায়েত হোসেন কাজল
