ইতালিতে এক লাখ পঞ্চাশ হাজারের বেশি বাংলাদেশি বসবাস করেন। তন্মধ্যে কয়েক হাজার বাঙালি নিজেদের পরিবার পরিজন নিয়ে বিভিন্ন প্রভিন্সে বসবাস করেন।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইতালিতে এই পর্যন্ত ২৭,৯৮০ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করা হয়েছে। মারা গিয়েছে ২১৫৮ জন । চীনের পর সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হচ্ছে ইতালি।
খুশির খবর করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রায় ২৮ হাজার রোগীর মধ্যে একজন বাংলাদেশিও নাই।
আমরা যারা ইতালিতে বসবাস করি আমাদের কমিউনিটির মধ্যে প্রতিনিয়ত খুব ভালো যোগাযোগ রয়েছে। কোথাও কোন দুঃসংবাদ পেলে খুব অল্প সময়ের মধ্যে পুরো কমিউনিটিতে ছড়িয়ে পড়ে।
নিজেদের পরিচিতজন বা স্থানীয় ভাবে প্রকাশিত বিভিন্ন বাংলা পত্র পত্রিকায় প্রতিনিয়ত এই সব সংবাদ প্রচার হয়ে থাকে।
প্রশ্ন হচ্ছে দেড় লক্ষ বাঙালি যেখানে মৃত্যুকূপের মধ্যে বসবাস করে আল্লাহর অশেষ রহমতে এখন পর্যন্ত নিজেরা মরণঘাতি করোনা ভাইরাস থেকে মুক্ত রয়েছে।
সেখানে হাতেগোনা কয়েকজন ইতালি ফেরৎ যাত্রী যাদের বিভিন্ন ভাবে পরীক্ষা নিরীক্ষার পর এবং বাংলাদেশ দূতাবাসের নির্দেশ মোতাবেক ডাক্তারী ছাড়পত্র নিয়ে দেশে ফেরার অনুমতি নিয়ে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়েছে।

যাত্রী পরিবহণের আগে যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে নির্দিষ্ট বিমান পরিবহণের পক্ষ থেকে বিমান বন্দরে যাত্রীদেরকে কয়েক দফা পরীক্ষা নিরীক্ষার সম্মুখীন হতে হয়। যেহেতু বাংলাদেশ এবং ইতালির মধ্যে সরাসরি কোন বিমান যাতায়ত নাই সেহেতু ট্রানজিট যাত্রী হিসেবে পথিমধ্যে নির্দিষ্ট সময়ের যাত্রা বিরতি এবং বিমান পরিবর্তনের জন্য সংশ্লিষ্ট বিমানবন্দরে যাত্রীদের প্রবেশ করার পর্বে আবারো কয়েক দফা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়।

বিশেষ করে করোনা ভাইরাস সংক্রমণের পর মধ্যপ্রাচ্যের বিমানবন্দর গুলোর কড়াকড়ি ভুক্তভোগী ছাড়া কাউকে বলে বুঝানো মুশকিল । ইতালি বা মধ্যপ্রাচ্যের বিমানবন্দর গুলোতে বাংলাদেশের মত পাচঁ সাতশো এক হাজার টাকা হাতে ধরিয়ে দিয়ে পার পাওয়ার কোন উপায় নাই।

বিভিন্ন স্তরে স্তরে পরীক্ষা নিরীক্ষা উতরে বাংলাদেশে আসার পর আবারো ‘ঢাল নাই তলোয়ার নাই নিধিরাম সর্দার’ ঢাকা বিমানবন্দরে করোনা নিয়ন্ত্রণে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন সরকারের বিশেষজ্ঞ (❗) মেডিক্যাল টিমকে নির্দিষ্ট পরিমাণ উৎকোচ দিয়ে ছাড়পত্র নিয়ে রেডজোন অতিক্রম করে দেশে প্রবেশ করার পরও
শুধু মাত্র ইতালি ফেরৎ যাত্রীদের মধ্যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী কি ভাবে দেশে প্রবেশ করলো❓
সরকারের ভাষ্যমতে দেশে এই পর্যন্ত সনাক্ত করা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে সবাই নাকি
ইতালি থেকে আগত!
অথচ যেসব বাঙালি চীনের বা ইতালির মৃত্যুকূপে থেকেও মরণঘাতি ভাইরাসে আক্রান্ত হলো না।
এখনো যারা চীনে বা ইতালিতে বসবাস করছে তাদের মধ্যে কেউ আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায় নাই ।

অবশ্য প্রাথমিক অবস্থায় সিঙ্গাপুরের দুইজন এবং ইতালিতে একজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর খবর পাওয়া গেলেও ইতিমধ্যে তারা সুস্থ হয়ে নিজনিজ বাসায় ফিরে গিয়েছে।

সরকার দেশে করোনা মোকাবিলার জন্য ইউকে ছাড়া ইউরোপ, আমেরিকা, মধ্যপ্রাচ্য সহ বহিঃবিশ্বের সাথে সমস্ত বিমান যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে।
চীন এবং ইউরোপের দেশ ইতালি ছাড়া ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় ইউকেতেই করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।
ইউকেতে এই পর্যন্ত প্রায় ১৬০০ মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে । মৃত্যু হয়েছে ৬০ জনের মত।
এদের মধ্যে একজন বাঙালি যিনি ইউকে আওয়ামী লীগের অন্যতম নেতা।
সরকারে বিশেষ একটি মহল স্বজনপ্রীতি দেখিয়ে ইউকের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্মুক্ত রেখে সেখান থেকে আসা যাত্রীদের বিনা ছাড়পত্রে দেশে প্রবেশ করতে দিয়ে দেশকে হুমকির মধ্যে ফেলে দিচ্ছে।
কারণ ইউরোপের মধ্যে যাতায়াতকারী একমাত্র বিমান বাংলাদেশ সরাসরি ঢাকা ইউকে বিমান পরিচালনা করে থাকে।
অথচ সরকারি ভাষ্যে শুধু মাত্র ইতালি ফেরৎ যাত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর ছুঁড়ে দিচ্ছেন।

বিশেষ একটি অঞ্চলের মানুষকে খুশি করতে তাদের প্রতি স্বজনপ্রীতি এবং বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের প্রবাসীদের প্রতি বৈষম্য মূলক আচরণের তীব্র প্রতিবাদ এবং নিন্দা জানাচ্ছি।