৮২ বছর আগের একটি বিজ্ঞাপন।

ধনুষ্টাঙ্কার সাধারণত ছোট বড় কাটাছেঁড়া বা গভীর ক্ষতের মধ্যে দিয়ে শরীরে সংক্রমিত হয়।
মরণঘাতি এই রোগের প্রতিষেধক টিকা তখনো পৃথিবীতে আবিষ্কৃত হয়নি।
রোগের ভয়াবহতা এবং জনসচেতনতা
সৃষ্টির লক্ষ্যে ৮২ বছর আগে বিশ্ববিখ্যাত বাটা কোম্পানির বুদ্ধিদীপ্ত এবং শিক্ষামূলক একটি বিজ্ঞাপন চিত্র। এটি কেবল একটি বিজ্ঞাপনই নয়, স্বাস্থ্যসচেতনতা মূলক একটি প্রচারণা ও বটে। একটি বিজ্ঞাপন কতটা সৃজনশীল হলে সমাজে প্রভাব ফেলতে পারে তার উদাহরণ হচ্ছে ১৯৩৮ সালের এই বিজ্ঞাপনটি।

খালি পায়ে গামছা কাঁধে গাঁয়ের পথে হাঁটার সময় একজন পথচারীর পা কেটে গেলে সে রাস্তার ধারে বসে পড়ে। পাশেই মরণঘাতি ধনুষ্টাঙ্কের জীবাণু। সামনে আটানা দামের বাটার বিখ্যাত রাবারের পাম্প সু। পিছন মৃত মানুষের কঙ্কাল।
অর্থাৎ ধনুষ্টাঙ্কের জীবাণু ক্ষতস্থানে সংক্রমিত হলেই মৃত্যু অবধারিত। যেহেতু ধনুষ্টাঙ্কার ছিল মরণঘাতি একটি অসুখ এবং এই রোগের কোন প্রতিষেধক ছিলনা জনসচেতনতা এবং পাঁয়ের সুরক্ষাই মানুষকে এই রোগ থেকে রক্ষা করতে পারে।
বিজ্ঞাপনটিতে মানুষকে এমন ভাবে প্রলুব্দ করা হয়েছে যে, জুতা না পরলেই মৃত্যু অবধারিত।
বাটাই সম্ভবত এই উপমহাদেশের মানুষকে জুতা পায়ে দিতে বিরাট অবদান রেখেছিল।
তখনকার সময়ে খুব বেশি মানুষ জুতা পায়ে দিতো না। শিক্ষিত এলিট শ্রেণীর মানুষ জুতা পরতো বেশি। গ্রামের সহজ সরল মানুষ গুলো খালি পায়ে হাঁটতো। বেশিরভাগ মানুষ কাঠের তৈরি খড়ম পরে ঘরে বা বাড়ির আঙ্গিনায় চলাফেরা করতো।
গ্রামের দু’একজনের জুতা থাকলেও, সেই জুতা পায়ে না দিয়ে বগলতলে বা হাতে নিয়ে হাঁটতে দেখা যেত অধিকাংশ মানুষকে। গন্তব্যের খুব কাছাকাছি আসলে জুতা পায়ে দিতে দেখা যেত।

গাঁয়ের সাধারণ মানুষকে প্রলুব্দ করতে
আটানা দামের পাম্প সু’র এই বিজ্ঞাপনটি ১৯৩৮ সালে একটি দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।