উত্তর কোরিয়া সারা বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন একটি অগণতান্ত্রিক দেশ।
স্বাধীনতার পর থেকে কিম জং উন পরিবার বংশপরম্পরায় দেশটি শাসন করে আসছে।
উত্তর কোরিয়ার আজব নির্বাচন পদ্ধতি আমাদেরও অনুসরণ যোগ্য !
এখানে সরকারি তালিকার বাহিরে কোন প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কোন সুযোগ নাই। কার্যত বিরোধী দল বলেও কিছু নাই! সরকার কর্তৃক মনোনীত আজ্ঞাবহ কিছু প্রার্থী থাকে নামে মাত্র।
নির্বাচনী আইন কানুন খুবই কড়া। উত্তর কোরিয়াতে প্রাপ্ত বয়স্কদের ভোট প্রদান বাধ্যতামূলক। ১০০% ভোটারের ভোট কেন্দ্রে উপস্থিতও বাধ্যতামূলক।
১৭ বছরের উপরে প্রতিটি নাগরিকে বাধ্যতামূলক ভোট প্রদান করতে হয়। অন্যথায় ভোটারদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
সরকারের প্রতি আনুগত্যের প্রমাণ হিসেবে হাস্যজ্জল মুখে উল্লাস প্রকাশ করতে করতে ভোটারকে খুব ভোরে নির্বাচন কেন্দ্রে হাজির হতে হয় । সবাই একসঙ্গে উপস্থিত হওয়ার পর ভোটকেন্দ্র লম্বা লাইন ধরে দাঁড়াতে হয় । এরপর ভোটার যখন ভোটকেন্দ্রে ঢুকবেন, তখন তার হাতে একটি ব্যালট পেপার দেয়া হয় । ব্যালট পেপারে একটাই নাম থাকে। সেখানে কোনো কিছু লিখতে হয় না বা সীল মারতে হয় না । কোনো বাক্সে টিক চিহ্ন থাকে না। ভোটার শুধু ব্যালট পেপারটি নিয়ে একটি নির্দিষ্ট বাক্সে ভরে দেবে। ভোটের বাক্সটিও সাধারণত খোলা অবস্থায় রাখা হয়।
ভোট দেয়া শেষ হয়ে গেলে ভোটাররা নির্বাচন কেন্দ্রের বাইরে গিয়ে সেখানে উপস্থিত অন্যান্য ভোটারদের সঙ্গে মিলে আনন্দ উল্লাস প্রকাশ করতে হয়, কারণ দেশের সুযোগ্য নেতাদের প্রতি সমর্থন জানাতে পেরে আপনি খুবই খুশি প্রমাণ করার জন্য ।
তার মানে এই নয় যে উত্তর কোরিয়ায় কোন বিরোধী দল নাই !
সরকারি দল ছাড়াও সংসদে আরো দু’টি দল রয়েছে।
অনেকটা আমাদের দেশের মত জোটগত ভাবে নির্বাচন করে কিম জং উনের নেতৃত্বাধীন ওয়ার্কার্স পার্টি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন নিয়ে সরকার গঠন করে বাকি দু’দল সামান্য কিছু আসন নিয়ে বিরোধী দলের আসন গ্রহণ করে।
একক কর্তৃত্ববাদী সরকার পদ্ধতি এবং সংসদীয় রীতিনীতি প্রায় সব কিছুই আমাদের দেশের মত। পার্থক্য শুধু ভোটের দিন ভোট কেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতির হার এখানে খুব কম। এই জন্য নানান উদ্যোগ প্রচার প্রচারণা, সভা সমাবেশ, মসজিদ মন্দির থেকে মাইকে ঘোষণা, গরু জবাই,মেজবান, খিচুড়ি, বিরিয়ানি বিতরণ করেও সন্তোষজনক ভোটারকে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত করা যেহেতু যাচ্ছে না,সেহেতু উত্তর কোরিয়ার ন্যায় ভোট প্রদান বাধ্যতামূলক এবং ভোট প্রদান থেকে বিরত থাকলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নেয়ার জন্য সুপারিশ করছি।
