
বিদেশ থেকে দেশে আসা প্রবাসীরা বাংলাদেশে মরনঘাতী করোনা ভাইরাস বহন করে দেশে নিয়ে এসেছেন বলে সর্বত্র দায়ী করা হচ্ছে !
দেশের অনেক স্থানে প্রবাসীদের উপর দৈহিক ভাবে আক্রমণ এবং হেনস্থা করা হচ্ছে। অনেক প্রবাসীর বাড়ি ঘরে হামলা করা হয়েছে।
কোথাও কোথাও অতিউৎসাহী হয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রবাসীদের চিহ্নিত করে বাড়ি বাড়ি লাল পতাকা উড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। যা ভাবতেও কষ্ট হচ্ছে।
দেশে গতকাল পর্যন্ত ৫ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী নিহত হয়েছেন বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। নিহতরা সবাই নাকি কোন না কোন ভাবে প্রবাসীদের সংস্পর্শে গিয়ে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু বরণ করেছেন।
আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে যাদেরকে করোনা ভাইরাস বহনকারী হিসেবে চিহ্নিত করে দেশে বিদেশে এবং সমাজে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে নিহত পাঁচ জনের মধ্যে একজনও বিদেশ থেকে সরাসরি করোনা ভাইরাস বহনকারী প্রবাসী নাই।
অথচ প্রবাসীদের মধ্য থেকে সংক্রামিত হয়েই নাকি নিহত পাঁচ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ।
দেশে করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩৯ জন।
এদের মধ্যে তিন জন হচ্ছেন বিদেশ দেশে আসা প্রবাসী ইতিমধ্যে এরা সুস্থ হয়ে গিয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
প্রশ্ন হচ্ছে যারা আগ থেকে ভাইরাস বহনকারী তারা আক্রান্ত না হয়ে তাদের দ্বারা সংক্রামিতরা কেন আক্রান্ত হচ্ছেন ?
কেন বা শুধু শুধু কয়েকটি দেশের প্রবাসীদের উপর অন্যায় অপবাদ দেওয়া হচ্ছে ?
বিশেষ করে ইতালি থেকে দেশে আসা প্রবাসীদের সামাজিক ভাবে হেনস্থা হেয়প্রতিপন্ন করা হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। সমস্ত অভিযোগের তীর ইতালি ফেরৎ যাত্রীদের উপর আরোপ করা হচ্ছে।
করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত দেশের মধ্যে সবচেয়ে আক্রান্ত এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হচ্ছে ইতালি ।
এখানে প্রায় দেড় লক্ষ বাংলাদেশী কাজ বা ব্যবসা বানিজ্যের সাথে জড়িত। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য একটি অংশ পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করে এখানে।
সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইতালিতে মৃতের সংখ্যা ৭৫০৩ জন আক্রান্ত রোগী সংখ্যা ৭৪৫০০ জন। তন্মধ্যে এই পর্যন্ত একজন হতভাগ্য বাংলাদেশি ছাড়া আর কেউ নিহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। নতুন করে কোন বাঙালি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলেও কোন খবর পাওয়া যায়নি।
দুঃখজনক হলো সামাজিক মিডিয়ায় বা পত্র পত্রিকায় এমন ভাবে প্রচার করা হচ্ছে মনে হয় সব করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ইতালি থেকে দেশে চলে এসেছে। এবং দেশের জন্য এরা হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে প্রতিপক্ষ হিসেবে এদের প্রতিহত করতে হবে।
বেলায়েত হোসেন কাজল ।
