‘ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম’ এই সময়ের আলোচিত একটি টপিক!
নিকট অতীতে বাংলাদেশ কখনো এরকম দূর্যোগ মহামারীর সম্মুখীন হয়নি। তাই ‘পিপিই’ র ধারণাটাও চিকিৎসক এবং জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থা ছাড়া অন্যদের কাছে নতুন। নিরাপদ কর্মক্ষেত্রের অধিকার দাতব্য নয় বরং এটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে আইনত সুরক্ষিত সকলের জন্য একটি অবিচ্ছেদ্য অধিকার। কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তার জন্য নিরাপত্তা কর্মীর
রাসায়নিক পদার্থ বা জীবাণু প্রতিরোধক পোষাক,জীবাণু নাশক হ্যান্ড স্যানিটাইজেশন, গ্লাভস, মাক্স, টুপি,জুতা, সুরক্ষা চশমা, শ্বাসযন্ত্র সুরক্ষা সরঞ্জাম ইত্যাদি নিশ্চিত করণ বাধ্যতামূলক।
করোনা ভাইরাস বিস্তার সময়কালীন দেশের সরকারী বেসরকারী হাসপাতালগুলো নির্বিশেষে তাদের প্রতিষ্ঠানের চিকিত্সকদের ন্যূনতম ব্যক্তিগত সুরক্ষা সরঞ্জাম পিপিই’ সরবরাহ চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তথা সরকার।
বৈশ্বিক মহামারীতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহা-পরিচালক তার নিয়মিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সব সময় বিশ্বব্যাপী এই পিপিই’র সংকটের কথা বার বার বলে আসছেন।
আমেরিকার মত অর্থনৈতিক ভাবে শক্তিশালী দেশ নিজেদের পর্যাপ্ত পিপিই’র স্বল্পতার কথা স্বীকার করে বহিঃবিশ্বে সাহায্য চেয়ে আবেদন করছে।
অথচ বাংলাদেশের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শুরু থেকে বার বার একটি কথাই বলে আসছেন বাংলাদেশে পর্যন্ত পরিমাণে পিপিই মজুদ আছে। কেউ পিপিই’ সাহায্যের কথা বললে বা এই বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি প্রয়োজনের সব সময় নাকচ করে দিয়েছে।
বিপরীত চিত্র দেশের হাসপাতাল গুলো বারবার চাহিদা পত্র প্রেরণ করা সত্ত্বেও সংশ্লিষ্ট বিভাগ থেকে কোন প্রকার বরাদ্দ পাচ্ছেনা। তারপরও মন্ত্রী বলছেন আমাদের পিপিই লাগবে না।
অন্যদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রীতো সংবাদ সম্মেলন করে বলছেন আমেরিকা আমাদের নিকট পিপিই’ সাহায্য সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ আমেরিকাকে পিপিই সহযোগিতা করবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
মোক্ষম একটা সুযোগ হাতছাড়া করতে চাইছে না বাংলাদেশ। সবসময় আমেরিকার সাহায্য নিয়েছে। এখন নিজেদের সুযোগ এসেছে আমেরিকার ঋণ শোধ করার।
দেশে পিপিই’র অভাবে স্বাস্থ্যকর্মীরা মৃত্যু ঝুঁকিতে রোগীদের চিকিৎসা করাতে পারছেনা অপ্রতুল বরাদ্দের কারণে বিদেশ থেকে আমদানি করা যাচ্ছে না।
কিন্তু করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণে সার্ক তহবিলে বাংলাদেশ ১৫ লাখ ডলার অনুদান দিয়েছে।
সত্যিই কি বিচিত্র এই দেশ!

