_______________________________________________
প্লিজ উপরের শিরোনাম দেখে কেউ ভাববেন না আমি মজা করছি । সত্যি বলছি বন্ধুরা আজ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি বহুল আলোচিত কচুরিপানার একটি মজাদার রেসিপি। কচুরিপানা যে শুধু গরু নয় মানুষেও খায় তা আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।
আসুন রান্না শুরু করার আগে সংক্ষেপে জেনে নিই কচুরিপানার ইতিহাস।
কচুরিপানা মুক্তভাবে ভাসমান বহুবর্ষজীবী একটি জলজ উদ্ভিদ। এর আদি নিবাস দক্ষিণ আমেরিকা।
ধারণা করা হয় কচুরিপানার অর্কিড-সদৃশ ফুলের সৌন্দর্যপ্রেমিক এক ব্রাজিলীয় পর্যটক ১৮শ’ শতাব্দীর শেষভাগে বাংলায় কচুরিপানা নিয়ে আসেন।
তারপর তা এত দ্রুত বাড়তে থাকে যে ১৯২০ সালের মধ্যে বাংলার প্রায় প্রতিটি জলাশয় কচুরিপানায় ভরে যায়। নদ-নদীতে চলাচল দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে আর জলাভূমির ফসল আমন ধান আর পাট চাষ অসম্ভব হয়ে পড়ে, ফলে বাংলার অর্থনীতিতে স্থবিরতা দেখা দেয়।
এমত পরিস্থিতিতে সরকার কচুরিপানার দৌরাত্ম্য হ্রাসে বাংলার জলাভূমি আইন, বাংলার মিউনিসিপ্যালিটি আইন,স্থানীয় সরকার এবং স্থানীয় গ্রাম সরকার আইন সংশোধন করতে বাধ্য হয়।
১৯৩৬ সালে সংশোধিত কচুরিপানা আইন জারি করা হয়। যার মাধ্যমে বাড়ির আশেপাশে কচুরিপানা রাখা নিষিদ্ধ ঘোষিত হয় এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় পরিচালিত কচুরিপানা পরিষ্কার অভিযানে অংশ নেয়াকে নাগরিক কর্তব্য এবং দায়িত্ব ঘোষণা করা হয়।
১৯৩৭ সালের নির্বাচনে সবগুলো দলের নির্বাচনী ইশতেহারে বাংলাকে কচুরিপানার অভিশাপ-মুক্ত করার অঙ্গীকার ছিল। শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক নির্বাচনে বিজয় লাভ করে তার নির্বাচনী ওয়াদা পূরণে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং কচুরিপানার বিরুদ্ধে জোরদার অভিযান শুরু করেন।
জানা যায় কচুরিপানা দিয়ে কাগজের মণ্ড তৈরির পাশাপাশি বায়ো ফুয়েল হিসেবে ব্যবহার করে বিশ্বের অনেক দেশ।
শুধু তাই নয়, কচুরিপানা আসলেই খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয় কম্বোডিয়ায়।
কম্বোডিয়ার মানুষ কচুরিপানার লতি আর ফুল ব্যবহার করে অসাধারণ একটি মাছের স্যুপ তৈরি করে, যা তাদের নিত্যকার খাদ্য হিসেবে ব্যবহার হয়।
আপনাদের জন্যে আজ দেয়া হলো সেই কচুরিপানার মজাদার রেসিপিটি …
#কচুরিপানার স্যুপ রান্না করতে যা যা লাগবে : – কচুরিপানার ফুল ও লতি, শাক পাতা, শোল মাছ, রসুন, আদা, লাল মরিচ, বিশুদ্ধ পানি, লবণ।
#প্রস্তুত_প্রণালী : – প্রথমে শোল মাছ কেটে ধুয়ে পরিষ্কার করে নিতে হবে।
এরপর কচুরিপানা থেকে ফুলসহ লতি আলাদা করে নিতে হবে। এরপর শাক পাতা কুচি করে কেটে নিতে হবে।এরপর চুলায় পানি গরম করে তাতে রসুন ও আদা ছিলে পিষে দিয়ে দিতে হবে। পরে ধুয়ে পিচ করে রাখা মাছের টুকরা দিয়ে দিতে হবে ফুটন্ত পানিতে । মাছ সিদ্ধ হয়ে আসলে এতে একে একে কেটে রাখা শাক পাতা, কচুরিপানার ফুল ও লতি দিয়ে দিতে হবে। এরপর লাল মরিচ ফালি করে কেটে দিয়ে দিতে হবে। সবশেষে স্বাদমত লবণ দিয়ে ফুটাতে হবে। ১০ মিনিট ফুটানোর পর তৈরি হয়ে গেল মজাদার শোল মাছ দিয়ে রান্না করা কচুরিপানার ঝোল। এইবার চুলা থেকে নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন বন্ধু বান্ধব এবং পরিবারের সবার মধ্যে ।
অবিশ্বাস করলে আপনি ঘরে বসে পরিক্ষা করে দেখতে পারেন সুস্বাদু মজাদার কচুরিপানা দিয়ে শোল মাছের ঝোল রান্নার রেসিপিটি।
একমাস আগের একটি লেখা।

