কখনও কোন মূর্খের সাথে তর্ক করতে যেও না…দেখা যাবে সে তোমাকে তার পর্যায় নামিয়ে এনে তোমাকে হারিয়ে দিবে…
জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদের অমেয় সত্য কথাটি গত দু’দিন আমি কেন জানি বেমালুম ভুলে গিয়েছিলাম !
তর্ক কর, বিতর্ক কর, কিন্তু তা জেতার জন্য করতে হবে কেন ?
ভণ্ড পীর নিয়ে গতকাল আমার একটি লেখাকে কেন্দ্র করে ভণ্ড
আটরশি পীরের কিছু অনুসারীর সাথে ইচ্ছার বিরুদ্ধে বিতর্কে জডিয়ে পড়ি ।

বর্তমানে যারা ইসলামের নামে কাজ করছে (?) বলে দাবী করেন তাদের মধ্যে পীর-মূরীদ ও খানকাহ দরগাহ পদ্ধতি অন্যতম। এরা মনে করে যে আধ্যাত্মিক শক্তিই সবচেয়ে বড় শক্তি এবং নফসের জিহাদি সবচেয়ে বড় জিহাদ। কিছু দূর্বল ও জাল হাদীস, পবিত্র কোরআনের ভুল ব্যাখ্যা এবং পীর ফকিরদের স্বপ্নের ভিত্তিতে একটি আলাদা ধর্ম তৈরী করেছে তারা যাকে তরিকত পন্থী বলে বিশ্বাস করে।এরা আল্লাহ প্রদত্ত হযরত মুহাম্মদ (সাঃ) প্রদর্শিত তরীকা থেকে সরে গিয়ে নিজেদের মত করে নতুন ইসলাম তৈরী করেছে !
এরা মনে করে পীরের কাছে মুরীদ হওয়া ফরজ ! যার কোনো পীর নাই তার পীর শয়তান ! পীরের নিকট দীক্ষা না হইলে কোনো ইবাদত বন্দেগী কবুল হয় না ! অথচ ফরজ বিধান দেওয়ার মালিক হলেন একমাত্র আল্লাহর।শরিয়ত নির্ধারন করার দায়িত্ব স্বয়ং আল্লাহর। কোনো পীর ফকিরদের নয়।
ভণ্ড প্রতারক পীর ফকিরের অনুসারীদের সাথে দীর্ঘ কথোপকথনে যেই ধারণা পেলাম তাহলো !
১ঃ- পীর বা ফকিরের পায়ে মাথানত করে সেজদা করা জায়েজ আছে।
২ঃ- পীর ফকির একজন নেককার লোক।
৩ঃ- পীর ফকিরের উপর আল্লাহ সন্তোষ্ট।
৪ঃ- পীর ফকির জান্নাতের পথ দেখাবে ।
৫ঃ- পীর ফকিরের তরিকা সর্বোত্তম তরিকা
৬ঃ- পীর ফকিরের হুকুম মানা মানেই আল্লাহ্র হুকুম মানা ।
৭ঃ- পীর ফকিরের কিতাবকে শরীয়তের কিতাব মনে করে।
৮ঃ- পীর ফকির হাশরের মাঠের উকিল ।
৯ঃ- পীর ফকিরের সকল কথা চিরন্তন সত্য মনে করা।
১০ঃ-বিপদ আপদে পীর ফকির সাহায্য করতে পারে।
১১ঃ- পীর ফকিরের হাতে অলোকিক কিছু আছে মনে করে।
১২ঃ-পীর ফকির গায়েব জানে মনে করে।
১৩ঃ-যার পীর নাই তার পীর শয়তান মনে করা।
১৪ঃ-পীর ফকিরকে হাদিয়া দেওয়া মানেই পীরের সুনজরে থাকা ।
১৫ঃ-পীরের অসন্তোষ্টি মানেই আল্লাহ্র অসন্তোষ্টি।
১৬ঃ-পীর ফকির মুফতি মাওলানা বা হাফেজ না হলেও পীরের এলেম সাতসমুদ্র ।
১৭ঃ- কিয়ামতের কঠিন সময়ে পীর ফকিরকে নাজাতের ওসিলা মনে করা।
১৮ঃ- নিজকে পাপী মনে করা তাই পীরের ওসিলা তালাশ করা।।
১৯ঃ- পীর ফকিরের শরীয়ত বিরোধী আদেশ পালনের মাঝে পীরকে সন্তোষ্ট করা।
২০ঃ-কবরকে উপলক্ষ্য করে উরসের আয়োজন করা।
মাত্র কয়েকটি বললাম। যার একটিই কোন এক ব্যক্তি গোমরাহ হবার জন্য যথেষ্ট।
উপরোক্ত প্রতিটি কাজই কুরআন ও হাদীস বিরোধী কুফরী ও শিরকী কাজ। যার অসংখ্য প্রমাণ কুরআন ও হাদীসে বিদ্যমান।

পীর বা ফকিরি লাভ করিতে হলে কোন প্রাথিষ্ঠানিক শিক্ষার প্রয়োজন হয় না। মুফতি মাওলানা বা কোরআনে হাফেজ না হলেও পিতা বা পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের কাছ থেকে বংশানুক্রমিক ভাবে গদ্দীনশীল হিসাবে পীরের আসনে অসিন হতে কোন বাধা নাই।
পীর ফকিররা কুরআন এবং হাদিসের ব্যাখার ক্ষেত্রে সঠিক শিক্ষা ও জ্ঞানের অভাবে ভুল ভ্রান্ত ধারণা প্রদান করে সহজ সরল মানুষকে বিপথে পরিচিলিত করে ।
বিশেষ করে পবিত্র কোরআনের অর্থ বা এর শানেনজুলকে একেই অর্থে ব্যবহার করে মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।
কোরআন অপরিবর্তনীয় একটি গ্রন্থ । কোরআনে কোন ভুল ভ্রান্তি নাই । কোরআনের ভুল ব্যাখ্যা করার কোন সুযোগ নাই । এই ক্ষেত্রে অত্যন্ত সুকৌশলে যে কাজটি করা হয় তাহলো কোরআনের শানেনজুল !
যেমন ধরুণ,পবিত্র কোরআনে বর্ণিত সুরা ইউনুস। এর ১০৪ থেকে ১০৮ নং আয়াতঃ-১০৪
বলে দাও-হে মানবকুল, তোমরা যদি আমার দ্বীনের ব্যাপারে সন্দিহান হয়ে থাক, তবে (জেনো) আমি তাদের এবাদত করি না যাদের এবাদত তোমরা কর আল্লাহ ব্যতীত। কিন্তু আমি এবাদত করি আল্লাহ ত’য়ালার, যিনি তুলে নেন তোমাদেরকে। আর আমার প্রতি নির্দেশ হয়েছে যাতে আমি ঈমানদারদের অন্তর্ভুক্ত থাকি।

১০৫ নং আয়াতঃ- আর যেন সোজা দ্বীনের প্রতি মুখ করি সরল হয়ে এবং যেন মুশরেকদের অন্তর্ভুক্ত না হই।
১০৬ নং আয়াতঃ-
আর নির্দেশ হয়েছে আল্লাহ ব্যতীত এমন কাউকে ডাকবে না, যে তোমার ভাল করবে না মন্দও করবে না। বস্তুতঃ তুমি যদি এমন কাজ কর, তাহলে তখন তুমিও জালেমদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
১০৭ নং আয়াতঃ-
আর আল্লাহ যদি তোমার উপর কোন কষ্ট আরোপ করেন তাহলে কেউ নেই তা খন্ডাবার মত তাঁকে ছাড়া। পক্ষান্তরে যদি তিনি কিছু কল্যাণ দান করেন, তবে তার মেহেরবানীকে রহিত করার মতও কেউ নেই। তিনি যার প্রতি অনুগ্রহ দান করতে চান স্বীয় বান্দাদের মধ্যে তাকেই দান করেন; বস্তুত; তিনিই ক্ষমাশীল দয়ালু।
১০৮ নং আয়াতঃ-
বলে দাও, হে মানবকুল, সত্য তোমাদের কাছে পৌঁছে গেছে তোমাদের পরওয়ারদেগারের তরফ থেকে। এমন যে কেউ পথে আসে সেপথ প্রাপ্ত হয় স্বীয় মঙ্গলের জন্য। আর যে বিভ্রান্ত ঘুরতে থাকে, সে স্বীয় অমঙ্গলের জন্য বিভ্রান্ত অবস্থায় ঘুরতে থাকবে। অনন্তর আমি তোমাদের উপর অধিকারী নই।
আর্থ হচ্ছে এই রুপ। এর ভাবার্থ পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করার ক্ষমতা কারো নাই ।
কিন্তু সমস্যা হচ্ছে শানে নজুল ! কোন শব্দের অর্থ বা শানে নজুল এক কথা নয় ! শানে নজুল হলে বক্তার ব্যাখ্যা। মুল অর্থকে বুঝানো জন্য ব্যাখ্যা । এখন একজন তাফসীরকারী ঘটনার বিষয় বস্তু সহজবোধ্য ভাবে বুঝানোর জন্য একেকজন একেক ভাবে বিষয়টি উপস্থাপন করেছেন মাত্র।
এখানে ঘটনার পরিবেশ পরিস্থিতির বর্ণনায় মতবেদ থাকলেও মূল অর্থের পরিবর্তন করার অধিকার কারো নাই ।
উপরেল্লেখিত আয়াতের মূল অর্থের পরিবর্তন বা মতবেদ না থাকলেও শানে নজুলের ক্ষেত্রে বিভিন্ন ব্যাখ্যায় পার্থক্য দেখা যায় । এই সমস্ত ফাঁকফোকরকে কাজে লাগিয়ে সহজ সরল মানুষের মগজ ধোলাই করে পীর ফকিররা নিজেদের স্বার্থ হাসিল করে যাচ্ছে।
যেখানে স্বয়ং নবী করীম (সাঃ) তার গোত্রের লোক বনু হাশিম,বনু মুত্তালিব সহ নিজ কন্যা ফাতেমাকে পর্যন্ত আহবান করে বলেছেন,তোমরা নিজেদের নাজাতের ব্যবস্থা নিজেরা কর ,আমি তোমাদের রক্ষা করতে পারব না। সেখানে পীর ফকিররা কি ভাবে তাদের বিপথগামী মুরীদের নাজাতের ব্যবস্থা করবেন ?

বেলায়েত হোসেন কাজল