মানুষের মৃত্যু পরবর্তী মৃতদেহ কেন্দ্রিক কার্যক্রম গুলো পরিচালিত হয় সাধারণত মৃত ব্যক্তির মৃত্যুপূর্ব ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী।
পৃথিবীতে প্রত্যেক ধর্মের রয়েছে নিজস্ব রীতিনীতি এবং আলাদা আলাদা-বিধি বিধান।
জ্ঞানত কোন ধর্মেই তার অনুসারীদের মৃতদেহের উপর অন্য ধর্মের রীতিনীতি বা বিধি-বিধান প্রয়োগের যেমন অনুমতি দেয় না। তেমনি ভাবে কোনো ধর্মাবলম্বীকে নিজস্ব গোরস্থান ছাড়া অন্য ধর্মের গোরস্থানে দাপন করার অনুমতিও দেয় না।

জানাজা একটি বিশেষ প্রার্থনা যা কোনো মৃত মুসলমানকে কবর দেয়ার পূর্বে অনুষ্ঠিত হয়।
মৃত্যু পরবর্তী ইসলামে জানাজা, দাফন – কাফন জীবিত মুসলমানদের উপর অবশ্যকরণীয় ফরজ একটি কাজ। জানাজা পড়া হয় একমাত্র মুসলমানের। কাফের, মুশরিক তথা বিধর্মীর জানাজা পড়া হয় না ।
হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রীষ্টান বা অপরাপর ধর্মাবলম্বী কারো মৃত্যু হলে সেই সেই ধর্মের রীতিনীতি অনুসারে শ্রাদ্ধ, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া, শেষকৃত্য, সমাধিস্থ একেক ধর্মে একেক নামে অভিহিত অবশ্যকরণীয় কিছু কর্ম সম্পন্ন করেই মৃত ব্যক্তিকে সমাধিস্থ করতে হয়।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে জীবদ্দশায় যারা নিজেদেরকে সেক্যুলার বা ধর্ম নিরপেক্ষ হিসেবে পরিচয় দেন, মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জলন করেন, নিজস্ব উৎসব আয়োজনে গীতা, বাইবেল, ত্রিপটিক থেকে পাঠ করেন, নিজেদের নিরপেক্ষতা প্রমাণের জন্য ইসলামের বিভিন্ন অসংগতি খুঁজে বেড়ায়, বিশেষ করে নারীর পর্দা, হজ্জ, রোজা, নামাজ, পশু কোরবানী, দাড়ি, টুপি, পাঞ্জাবী, পাগড়ি পরা নিয়ে কটুক্তি বা মুক্তমনা প্রগতিশীল মতামত প্রদান করেন তারা কেন নিজেদের মৃত্যুর পর কি ভাবে মৃতদেহের সৎকার করা হবে সেই প্রসঙ্গে কোন মতামত প্রদান করেন না।
প্রগতিশীল সেক্যুলার লেখক রাজনীতিবিদরা সারাজীবন ধর্ম নিরপেক্ষতার নামে যখন ইসলামের রীতিনীতি, কড়া-কড়ি, বিধি-বিধান, মোল্লা, আলেম – ওলামাদের বিরোধিতা করে লেখালেখি করেন তখন তার পরিবার বা আত্মীয় স্বজনদের পক্ষ থেকে প্রতিবাদ প্রতিরোধ করতে দেখা না গেলেও মৃত্যুর পরে তাকে সৎকারের জন্য ঐ সমস্ত মোল্লা, আলেমদের কাছে ছুটে যেতে দেখা যায় । কেউ তাদের জানাজা পড়াতে অপরাগতা প্রকাশ করলে তার তীব্র সমালোচনা করেন।
শুধু মাত্র মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করলেই কেউ মুসলমান হয়ে যায় কি ? মুসলমান পরিবারের কোনো সদস্য যদি নাস্তিক হয়, যদি সে আল্লাহ-রাসূলকে অস্বীকার করে অথবা আল্লাহ রাববুল আলামীন, হযরত মুহাম্মদ ( সঃ) , কুরআন বা শরীয়তের অকাট্য অন্য কোনো বিধিবিধান নিয়ে কটূক্তি, কটাক্ষ করে তবে সে সীমালঘংনকারী, বরং মুসলিম-পরিবারে জন্মগ্রহণকারী বা জীবনের একটি অংশে মুসলমান থেকে পরবর্তীতে অবিশ্বাসী হওয়ায় সে নিকৃষ্টতমদের মধ্যে অন্যতম একজন । শরীয়তের পরিভাষায় যাকে বলা হয় ‘মুরতাদ।
কাফের, মুশরিক, অবিশ্বাসী নাস্তিক, মুরতাদ তথা অমুসলিমের জানাজার নামাজ হারাম হওয়ার বিষয়টি শরীয়তের সুস্পষ্ট দলিল দ্বারা প্রমাণিত।