৩১শে ডিসেম্বর ২০১৯ পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমাণ ৩২,৬০ বিলিয়ন ডলার।
গত বছর প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সের পরিমাণ ছিল ১৬,৮০ বিলিয়ন ডলার।
বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা সচল ও মজবুত রাখতে বৈদেশিক মুদ্রার সিংহ ভাগ রেমিটেন্স যোগান দিচ্ছেন
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে কর্মরত ১ কোটির অধিক বাংলাদেশী রেমিটেন্স যোদ্ধারা। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স কমে গেলে বাংলাদেশে হাহাকার লেগে যায়। অর্থনীতিতে চরম নেতিবাচক অবস্থা সৃষ্টি হয়।
এশিয়া, ইউরোপ, আমেরিকা যখন বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দার কারণে হাহাকার লেগে যায় তখনোও বাংলাদেশী প্রবাসীদের পাঠানো রক্ত ঘামে ভেজা রেমিটেন্সের কারণে দেশের অর্থনীতিতে কোন আচড় লাগতে দেয়নি।
প্রবাসজীবন মানেই নিঃসঙ্গতা। দেশের সব মায়া মমতা ভুলে কঠোর পরিশ্রমের দিনাতিপাত করা। ১২-১৬ ঘণ্টা দৈনিক কাজ করা। প্রিয়জনকে কাছে না পাওয়া। বাংলার সুবাস থেকে বঞ্চিত হওয়া। অর্ধাহারে বা অনাহারে থাকা। মা বাবার শেষ মুখটা না দেখা। সন্তানের জন্ম না দেখা। কতই না প্রবাসীদের ত্যাগ স্বীকার করতে হয়। তারপরও এরা হাসিমুখে দেশের ও দেশের মানুষের কথা ভেবে হাড়ভাঙা পরিশ্রম করতে দ্বিধা করে না।
কিন্তু বিনিময়ে এরা কি পায় ? সর্বত্র অবহেলার স্বীকার হতে হয়। বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসে এবং দেশে ফিরলে বিমান বন্দর পর্যন্ত প্রবাসীরা শুধুই অবজ্ঞা আর লাঞ্ছনার মুখেই পড়ে।
বিদেশে দূতাবাসের কর্মকর্তা কর্মচারী বা বিমান বন্দরে বাংলাদেশি প্রবাসীদের মানুষ হিসেবেই গণ্য করা হয় না। বিমান বন্দরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা প্রবাসীদের সঙ্গে কেমন আচরণ করে ভুক্তভোগী ছাড়া কাউকে বলে বুঝানো মুশকিল ।
বিমানবন্দরে হয়রানির সবচেয়ে অসহ্য ধাপ হচ্ছে লাগেজ সংগ্রহ করা । প্রবাসীরা দীর্ঘ বিমান যাত্রা শেষে বিমানবন্দরে পৌঁছে কাস্টমস, ইমিগ্রেশন পুলিশের পাশাপাশি দালাল ও প্রতারকচক্রের পদে পদে নানান হয়রানি ঝাক্কি ঝামেলা ফেরিয়ে বাহিরে এসে লাগেজের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয় । অনিশ্চিত আশঙ্কায় নিয়ে অপেক্ষা করতে হয় লাগাজ পাওয়া যাবে কিনা। পাওয়া গেলেও লাগেজ এমনভাবে বেল্টে ছুড়ে ফেলা হয় যাতে ব্যাগেজের মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। কখনো ব্যাগ ছিঁড়ে মালামাল পড়ে গেলে শুরু হয় লুটপাট।অনেক সময় সংঘবদ্ধ চক্র লাগেজ গায়েব করে ফেলে।লাগেজ কেটে ভেতরের মালামাল সরিয়ে ফেলে।প্রতিবাদ করলে লোডাররা যাত্রীর সাথে অনেক সময় তুই-তুকারি থেকে শুরু করে চরম অসৌজন্যমূলক আচরণের পাশাপাশি হুমকি-ধমকিতে যাত্রীদের আতঙ্কিত করে তোলে । বিমানবন্দরে প্রবাসীদের উপর দৈহিক নির্যাতন চালানোর মত ন্যক্কারজনক ঘটনাও প্রায়শই ঘটে।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত ও নাজেহালের শিকার হচ্ছেন মধ্যপ্রাচ্যের দেশসমূহে কর্মরত বাংলাদেশিরা। তারা দেশে ফেরা ও কর্মস্থলের উদ্দেশে রওনা হওয়া উভয় ক্ষেত্রেই চরম হয়রানির শিকার হন। ইমিগ্রেশন বিভাগে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা এসব প্রবাসী কর্মজীবীর সঙ্গে খুব দুর্ব্যবহার করেন। পেটে কলমের গুঁতা দেওয়া, ইয়ার্কির ছলে দুই হাতে গলা চেপে ধরে পাছায় লাথি মেরে হটিয়ে দেওয়া নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এইসব অপমানজনক ঘটনায় ক্ষুব্ধ অনেক নিরীহ যাত্রী রাগে ক্ষোভে দুঃখে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন, অপমান লজ্জায় বা সর্বস্ব হারিয়ে বিমানবন্দরের মেঝেতে গড়াগড়ি করে কাঁদতে দেখা যায়।
বিমানবন্দরের ভিতরের নানান হয়রানি ঝাক্কি ঝামেলা ফেরিয়ে বাহিরে আসলে পড়তে হয় আরেক বিরক্তিকর পরিস্থিতির মুখোমুখি। দরদাম করে একটা টেক্সি নিবেন তার উপায় থাকে না। লাগেজ নিয়ে শুরু হয় টেক্সি ড্রাইভারদের টানাহেঁচড়া। বাহিরে অপেক্ষমাণ টেক্সি, সিএনজি সহ বিভিন্ন যানবাহনের ড্রাইভারদের প্রকৃত ভাড়ার অতিরিক্ত তিন চার গুণ বেশি ভাড়া দাবি করা। দেড় দুইশ টাকার ভাড়া দেড় দুই হাজার টাকা দাবি করা নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। তারা মনে করে বিদেশ থেকে প্রবাসীরা কোটি কোটি টাকা নিয়ে এসেছে একটু বেশি ভাড়া দিতে অসুবিধা কি ।
আত্মীয় স্বজন পরিবার পরিজন দেশে রেখে বছরের পর বছর হাড়ভাঙ্গা খাটাখাটনি করে কোটি কোটি ডলার রেমিটেন্স পাঠিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখা রেমিটেন্স যোদ্ধারা বিমান থেকে দেশের মাটিতে পা রাখা থেকে শুরু করে বাড়ি পৌঁছা পর্যন্ত প্রতিটি পদে তাদের যাচ্ছেতাই হয়রানি শিকার হতে হচ্ছে।
