বার্ড ফ্লু, সোয়াইন ফ্লু, অ্যানথ্রাক্স, সার্স ভাইরাস, নিপা ভাইরাস আতঙ্কের পর বর্তমান বিশ্বের মহাআতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস।
চীনের উহান প্রদেশ থেকে শুরু হয়ে ইতিমধ্যে পৃথিবীর প্রায় ১০০টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে এই ভাইরাস।
চীন থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে এই পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৩ হাজার ৮২৮ জন। তন্মধ্যে শুধু চীনেই মৃতের সংখ্যা ৩ হাজার ১১৯ জন। চীনের বাইরে নিহত হয়েছে ৭০৯ জন। করোনা ভাইরাসে বিশ্বজুড়ে আক্রান্তের সংখ্যা ১ লাখ ৯ হাজার ৯৭৭ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানা যায় । এরমধ্যে চীনে আক্রান্তের সংখ্যাই ৮০ হাজারেরও অধিক।
চীনের পরেই করোনা ভাইরাসে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হয়েছে ইউরোপের দেশ ইতালি।
করোনা ভাইরাসে ইতালিতে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬৬ জনে । শুধুমাত্র গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে নিহত হয়েছে ১৩৩ জন এবং আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৪৯২ জন। এখন পর্যন্ত ইতালিতে মোট আক্রান্ত হয়েছে ৭ হাজার ৩৭৫ জন।

ইতালি ছাড়া ইরানে ১৯৪ জন নিহত এবং ৬ হাজার ৫৬৬ জন আক্রান্ত হয়েছে ,দক্ষিণ কোরিয়ায় ৫১জন নিহত এবং ৭ হাজার ৩১৩জন আক্রান্ত, যুক্তরাষ্ট্র ২২জন নিহত এবং ৫৩৮জন আক্রান্ত হয়েছে , ফ্রান্স ১৯জন নিহত আর ১২০০ অধিক আক্রান্ত, স্পেন ১৭ জন নিহত এবং ৬৭৫জন আক্রান্ত হয়েছে।
এছাড়াও জাপান, ইরাক , হংকং , অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, নেদারল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, ফিলিপাইন, মিশর, থাইল্যান্ড, আর্জেন্টিনা ও তাইওয়ানে বেশ কিছু মানুষ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে নিহত হয়েছে।
আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত সহ পৃথিবীর অনেক দেশ এখন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ।
দাবি করা হচ্ছে বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসে আক্রান্ত তিনজন পাওয়া গিয়েছে। জানিনা সরকার কি ভাবে নির্ণয় করেছে বাংলাদেশে শুধু মাত্র তিন জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী আছে ! কারণ এর সংখ্যা আরো অধিকও হতে পারে । শুনা যায় করোনা ভাইরাস বা যে কোন ভাইরাস বাহীত রোগ জীবাণু নির্ণয় বা পরীক্ষা নিরীক্ষার আর্চওয়ে ফখরুল ভগবানজ্ঞানে থার্মাল স্ক্যান মেশিন গুলোর একটি ছাড়া সবকটি দীর্ঘদিন ধরেই নষ্ট।
প্রথম থেকে অভিযোগ ছিল করোনা শনাক্তে আন্তর্জাতিক মানের থার্মাল স্ক্যানার ব্যবহার করা হচ্ছে না। তুলনামূলক কম জনবল ও একটি মাত্র স্ক্যানার দিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের যাত্রীদের দায়সারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করছে। পরীক্ষার নামে শরীরে তাপমাত্রা পরীক্ষা করে মৌখিকভাবে জ্বর, ঠান্ডা ও কাঁশি আছে কিনা এসব জিজ্ঞেস করে এরপর একটি ফরম পূরন করতে বলা হয় । চট্টগ্রাম বিমান বন্দর, নৌ বন্দর বা ভারত থেকে ফেরা স্থল বন্দরেও ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে তাপমাত্রা পরীক্ষা করে কয়েকটি প্রশ্ন করে দেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে ।
চীনের উহান প্রদেশ থেকে করোনা ভাইরাস যখন মহামারী আকারে সমগ্র চীনে ছড়িয়ে পড়েছিল তখন উহান প্রদেশে আটকে পড়া ৩৬১ জন বাংলাদেশীকে ফিরিয়ে আনা হয়েছিল। ফিরিয়ে আনা যাত্রীদের দায়সারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে চার পাঁচ দিন হাজী ক্যাম্পে কোয়ারেন্টাইনে রেখে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, আবার অনেকে পালিয়ে চলে গিয়েছিল।
এদের মধ্যে কেউ যে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ছিল না তা কিভাবে নির্ণয় করা হয়েছে ?
চীনে আমাদের প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার শিক্ষার্থী বিভিন্ন কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া লেখা করে। আরো কয়েক হাজার মানুষ সেখানে ব্যাবসা বাণিজ্য বা চাকরি করে।
সেখানে কোন বাঙালি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে কোন খবর পাওয়া যায়নি। সিঙ্গাপুরের দুই জন বাঙালি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে শোনা যায় এবং তারা সেখানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরে যায়।
ইউরোপের মধ্যে ইতালিতে প্রায় লক্ষাধিক বাঙালি বসবাস করে। প্রায় সাড়ে তিন শতের অধিক মানুষ নিহত এবং দেড় হাজারের মত আক্রান্ত রোগীর মধ্যে নিহতের তালিকায় কেউ না থাকলেও ১ জন মাত্র বাঙালি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে লক্ষ লক্ষ বাঙালি কাজ করে।
মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশে বিশেষ করে ইরান ইরাক বা সৌদি আরবে কোন বাঙালি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলে কোথাও শোনা যায়নি।
অর্থাৎ এশিয়া,ইউরোপ, আমেরিকা, আফ্রিকা মহাদেশে বসবাস করা লক্ষ লক্ষ বাঙালির মধ্যে ছড়িয়ে পড়া করোনা ভাইরাসে মাত্র ৩ জন আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। দীর্ঘ নীরবতার পর হঠাৎ করে বিদেশ ফেরত যাত্রীর মাধ্যমে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর সন্ধান পাওয়া গেল কিভাবে সেখানেই প্রশ্ন দেখা দিয়েছে ।
আমার ধারণা হঠাৎ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত তিনজন রোগী পাওয়ায়, এ যেন সরকারের উচ্চ মহলে সোনার হরিণ পাওয়ার মত ! ভারতের উগ্র বর্ণবাদী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশে আগমনের বিরুদ্ধে গড়ে উঠা প্রতিবাদের মুখে শাপে বর অর্থাৎ ‘অনিষ্টে ইষ্ট লাভ করা’ বলা যেতে পারে। সাপও মরলো, লাঠিও ভাঙ্গলো না।
সরকারের কিছু কিছু মহল থেকে বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সরকারের উচ্চ মহলে অনেক দেন দরবার করা হয়েছে দেশে করোনা ভাইরাসে আগমনী বার্তা যেন ১৭ তারিখের পরে ঘোষণা করা হয়। সত্যি যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত হয়ে থাকে চিন্তা করা যায় কি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য এরা পদক্ষেপ নিতে চেষ্টা করেছিল!
যাক সরকারকে সাধুবাদ দেওয়া যায় দেরিতে হলেও সরকার যে কোন উপলক্ষে করোনা ভাইরাসের চেয়ে মারাত্মক নরেন্দ্র মোদীর মত সাম্প্রদায়িক ভাইরাসের বাংলাদেশে আগমন স্থগিত করেছে। কারণ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যত মানুষ নিহত হয়েছে তার চেয়ে বেশি মানুষ নরেন্দ্র মোদীর প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ নেতৃত্বে ভারতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় হিন্দুদের হাতে মুসলমানরা নিহত হয়েছে।
বলা হয় করোনা ভাইরাসের নির্দিষ্ট কোন ভ্যাকসিন বা প্রতিষেধক এখনো আবিষ্কার হয়নি। তাই ভাইরাসে আক্রান্ত প্রত্যেকটিদেশ রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণের জন্য সুনির্দিষ্ট কিছু নিয়ম কানুন মেনে চলার জন্য সুপারিশ করে থাকেন।
রোগ প্রতিরোধ এবং সংক্রামক থেকে বাঁচার জন্য গণযানবাহন, জণসমাগম এড়িয়ে চলার উপর সবচেয়ে বেশি বেশি জোর দেওয়া হচ্ছে।
ভাইরাসে আক্রান্ত প্রত্যেকটিদেশ প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে নিজেদের দেশের সমস্ত স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করে দিয়েছে।
অথচ বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগী সনাক্ত করা হয়েছে তারপরও সরকারকে সভা সমাবেশ বা স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করার কোন পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না। বরং সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে স্কুল কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করা লাগবে না। তাহলে কি ভাইরাস সারা দেশে ছড়িয়ে পড়লে সরকার রোগ নিয়ন্ত্রণের পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন ?