প্রতি বছর ৮ই মার্চ যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে বিশ্বের অনেক দেশের ন্যায় বাংলাদেশে ও পালিত হয় আন্তর্জাতিক নারী দিবস। আন্তর্জাতিক নারী দিবসটি পালনের পেছনে রয়েছে এক অনন্য ইতিহাস। অথচ ফেইসবুকে কিছু সংখ্যক বন্ধুর অপ্রাসঙ্গিক ছবি সংবলিত লেখা লেখি,বিভিন্ন শ্রেণী পেশার নারীদের চরিত্র নিয়ে কটাক্ষ করে লেখা দেখে খুবই অবাক হয়েছি। আমরা অনেকেই জানি না মহান “মে দিবস” অর্থাৎ আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস এবং “আন্তর্জাতিক নারী দিবস”এর মধ্যে মৌলিক কোন পার্থক্য নাই। ১৮৮৬ সালের ১লা মে শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে সপ্তাহের প্রতি দিনই ১০/১২ঘন্টা অমানবিক পরিশ্রমের পরিবর্তে ৮ ঘন্টা শ্রম ঘন্টা নির্ধারণ, কাজের স্বাস্থ্য সম্মত নিরাপদ পরিবেশ এবং নূন্যতম মজুরির দাবিতে শ্রমিকরা রাজপথে নামলে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে অনেক শ্রমিক আহত এবং নিহত হন। পুলিশের উপর হামলার অভিযোগে কয়েকজন শ্রমিককে প্রহসন মূলক বিচারের মাধ্যমে উন্মুক্ত স্থানে ফাঁসি দিয়ে হত্যা করা হয়। ১লা মে শ্রমিকদের আন্দোলন, আত্মত্যাগ এর ফলে শেষ পর্যন্ত দৈনিক ৮ ঘন্টা কাজ করার দাবি অফিসিয়াল স্বীকৃতি পায়। এবং দিনটিকে শ্রমিকদের দাবি আদায়ের দিন হিসেবে পৃথিবীব্যাপী মে দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে। ঠিক তদ্রুপ ১৮৫৭ সালের ৮ই মার্চ আমেরিকার নিউইয়র্ক শহরে একটি সুচ কারখানার নারী শ্রমিকরা কর্মক্ষেত্রে মানবেতর জীবন যাপন অত্যাচার নির্যাতন বন্ধ ন্যায্য মজুরির দাবিতে এবং দৈনিক ১২ ঘন্টা কাজের পরিবর্তে ৮ ঘন্টার দাবিতে রাজপথে আন্দোলন শুরু করেন। নারী শ্রমিকদের আন্দোলন দমনের জন্য তাদের উপর নেমে আসে পুলিশি নির্যাতন। পুলিশের হামলায় অনেক নারী শ্রমিক আহত হন। নারী শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের অন্দোলন সংগ্রামের এই দিনটিকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য এবং তাদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য ১৯১০ সালের ৮ই মার্চ ডেনমার্কের কোপেনহেগেন শহরে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক নারী সম্মেলনে ৮ই মার্চ কে “আন্তর্জাতিক কর্মজীবী নারী দিবস” হিসেবে ঘোষণা করেন। ১৯৭৫ সালে জাতিসংঘ ৮ই মার্চ কে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। তখন থেকে বাংলাদেশে সহ বিশ্বের সকল দেশে দিনটি পালিত হয়ে আসছে। অথচ আমরা কিছু মানুষ নারী দিবসের সাথে পুরুষ দিবস ঘোষণার উদ্ভট দাবি সহ বিভিন্ন আজেবাজে কথা লেখে বা মন্তব্য করে দিবসটির মর্যাদা নষ্ট করছি।
