ফ্রাঙ্কেনস্টাইন অষ্টাদশ শতকের পরিচিত ও জনপ্রিয় একটি বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী । ১৮১৮ সালে মেরী শেলী নামে একজন ইংরেজ লেখক এই উপন্যাসটি রচনা করেন।
ফ্রাঙ্কেনস্টাইন ছিলেন একজন চিকিৎসা বিজ্ঞানী । পৃথিবীকে তাক লাগানো আবিষ্কারের নেশায় তিনি মানুষ সৃষ্টি করতে চাইলেন। নিরলস গবেষণার মাধ্যমে মানবদেহের বিভিন্ন জনের বিভিন্ন অংশ জুড়ে মানুষরূপে যাকে সৃষ্টি করলেন সেটি মানুষ না হয়ে হলো ভয়ংকর দানব! পৃথিবীর বুকে জন্ম নেয় এক আধিভৌতিক দানবের!
প্রচন্ড শক্তিশালী এই দানবটি দেখতে কুৎসিত।
ভয়ে এবং হতাশায় ফ্রাঙ্কেনস্টাইন দূর্ব্যবহার করে তাকে তাড়িয়ে দেন ।
সৃষ্টিকর্তা কর্তৃক পরিত্যক্ত ও নিঃসঙ্গ দানব প্রতিশোধের স্পৃহায় ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের আপনজনদের হত্যা করে, কিংবা তাদের মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়ায় ।
ভয়ংকর দানব তার সহকারী, গৃহ ভৃত্য, স্ত্রী, পরিবারের অন্যান্য সদস্য থেকে শুরু করে শতশত মানুষকে নির্মম নিষ্ঠুর ভাবে হত্যা করে ।
ফ্রাঙ্কেনস্টাইন তাঁর ভুল বুঝতে পারেন। কিন্তু দানবের হাত থেকে মৃত্যুর আগে তিনি কখনো রেহাই পাননি । তাঁর জীবন জ্বলন্ত নরকে পরিণত হয়। ফ্রাঙ্কেনস্টাইন ও তাঁর দানবের আশা-আকাঙ্খা ও দুঃখ-বেদনা এতই মর্মস্পর্শী যে এই কল্পকাহিনী প্রায় দু’শ বছর ধরে পৃথিবীতে অমর কাহিনী হিসাবে টিকে আছে ।
মানুষ অপরিণামদর্শী হলে তাকে কি ফল ভোগ করতে হয় তা বুঝাতে ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের আবিষ্কার ও তাঁর দানবের ঘটনাকে উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করতে প্রায় দেখা যায়।

রাজনীতির নামে দুর্বৃত্ত দানব তৈরির অপরাধীদের মনে রাখা উচিত বেলা শেষে এরা কেউ কারো থাকে না।
দানব যেমন শুরুতে তার স্রষ্টাকে শেষ করে দেয়।
খালেদ, জিকে শামিম, সম্রাট, লোকমান, পাগলা মিজান, ওমর ফারুক, কাজী আনিস, শোভন, রব্বানি, মেহেদী, ফুয়াদ সহ যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কৃত বা ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানে গ্রেফতারকৃত অনেকের রাজনৈতিক অতীত ইতিহাস ভিন্ন বলে জানা যায়।
এদের অধিকাংশ ফ্রিডম পার্টি, জামায়াত, বিএনপি, জাতীয় পার্টি সহ নষ্টভ্রষ্ট রাজনৈতিক মফিয়ারা দলে অনুপ্রবেশকারী সুবিধাভোগী বলে দল থেকে দাবি করা হয়েছে।
অথচ দুর্বৃত্তায়নের সর্বনাশা রাজনীতির সাথে জড়িত পথভ্রষ্ট এই সব দুর্বৃত্তরা দেড়/দুই যুগ থেকে দুর্দান্ত দাপটে দলের বিভিন্ন পদ – পদবী ব্যবহার করে হাজার হাজার কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অভিযোগ আছে এদের কেউ কেউ দলের কমিটি বা সদস্যপদ বিক্রি করে কয়েক হাজার কোটি টাকার মালিক হয়েছেন। অনেকে নিজেদের প্রভাব প্রতিপত্তি খাটিয়ে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে হাজার হাজার কোটি টাকার সরকারি উন্নয়ন মূলক কাজের টেন্ডার হাতিয়ে নিয়েছেন। সরকারি সম্পত্তি, সাধারণ জনগণের জায়গা জমি দখল, শতশত কোটি টাকা চাঁদা আদায় থেকে শুরু করে অত্যাধুনিক জুয়ার আসর ক্যাসিনো সহ নানাবিধ আপরাধের সাথে জড়িত রাজনৈতিক দুর্বৃত্তরা এখন এদের আশ্রয় প্রশ্রয়দাতাদের জন্য হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসছে কে কি ভাবে, কাকে দিয়ে, কত হাজার কোটি টাকার মালিক! দেশে বা বিদেশে কার কত সম্পদ রয়েছে, কার কত টাকা দেশী বিদেশী ব্যাংকে গচ্ছিত আছে। পুলিশি অভিযানে আবিষ্কার হচ্ছে ঘরে ঘরে টাকশালের। এই যেন আরব্য উপন্যাসের কল্পকাহিনীকে হার মানাচ্ছে !
জোর জবর দোস্তি করে আদর্শ, নীতি নৈতিকতা বিবর্যিত র্বিভিন্ন দল থেকে ছাড়িয়ে এনে পঞ্চপাণ্ডবের সমন্বয়ে যারা নিজেদের রাজনৈতিক সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন তাঁরা বুমেরাং হয়ে ফ্রাঙ্কেনস্টাইনের দানবের মত নিজেদের উপর চেপে বসেছেন।